করোনাকালে ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। তার আগে করোনা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে ক্রিকেটারদের। কিন্তু দুই দফায় করোনা টেস্টে ‘দশ’ জন ক্রিকেটার ও একজন কোচিং স্টাফের ‘পজিটিভ’ আসে। যার মধ্যে আছেন পাকিস্তানের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ।

কিন্তু নিজের করোনা টেস্ট নিয়ে সন্দেহ হলে পরের দিন ব্যাক্তিগত ভাবে অন্য জায়গায় করোনা টেস্ট করান হাফিজ। আর রিপোর্ট আসে ‘নেগেটিভ’! আর নিজের রিপোর্ট পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) জানান নি তিনি। না জানিয়ে সেই রিপোর্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করেন হাফিজ।

আর তাতেই পাকিস্তানের করোনা টেস্টের মান নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। আর পিসিবিকে না জানিয়ে এমন কাজ করাতে খেপেছেন পিসিবি। সম্প্রতি ক্রিকেট পাকিস্তানের এক সুত্র থেকে জানা গিয়েছে, হাফিজের আচরণ মোটেও ভালো চোখে দেখছে না পিসিবি। নেগেটিভ আসার ফল তিনি পিসিবিকে আগে না দেখিয়ে প্রকাশ করায় মনোক্ষুণ্ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান।

সেই সূত্রের মতে, “পিসিবি প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান ফোনে হাফিজের সঙ্গে কথা বলেছেন। কোভিড-১৯ এর ফল জনসন্মুখে প্রকাশ করাটা তিনি ভালোভাবে নেননি তা জানিয়ে দিয়েছেন হাফিজকে। তার মতে এটা পাকিস্তানের (করোনা) পরীক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা।”

তবে ঐ সুত্র জানায় হাফিজ নাকি আগে পিসিবির কোন এক কর্মকর্তাকে ফোন করেছেন। কিন্তু তিনি ফোন না ধরার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। সেই সূত্রের ভাষ্য, “পজিটিভ আসার পর সে ভীষণ মানসিক চাপে ছিল জানিয়েছে। পরিবার সংক্রমিত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করানোর কথা বলেছে। নেগেটিভ আসার পর সে পিসিবির এক অফিশিয়ালের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। কিন্তু দ্রুত সাড়া না মেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপোর্টটি প্রকাশ করেন।”

পিসিবির ওয়াসিম খান ক্রিকেট ভিত্তিক এক ইউটিউব চ্যানেলকে বলেন, “সে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরীক্ষা করাতেই পারে। তবে এর আগে পিসিবির সঙ্গে তার কথা বলে নেওয়া উচিত ছিল। কারণ সে এখন আমাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে নিয়মভাঙা হাফিজের জন্য এই প্রথম নয়। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সে নেই। কিন্তু জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া মানে সব নিয়মই মানতে হবে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আমরা দেখি কী করা যায় কারণ এটা অনেক সমস্যা তৈরি করেছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here