একসময় বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে যাদের হাত ধরে শক্ত জায়গা পেয়েছিল কেনিয়া, স্টিভ টিকোলো তাদের একজন। দলটিতে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার ছিলেন। এজন্য বলে কয়ে বাংলাদেশকে হারাতে পারতো কেনিয়া। কিন্তু কেনিয়ান ক্রিকেটের সোনালী দিন গুলো এখন জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়।

সেই ছোট দলের বড় তারকা ছিলেন স্টিভ টিকোলো। তিনি কেনিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। তাঁর একক দক্ষতায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ কিছু ম্যাচ জিতেছে কেনিয়া।

স্টিফেন ওগোনজি টিকোলো, ১৯৭১ সালের ২৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বড় দুই ভাই টম টিকোলো এবং ডেভিড টিকোলোও ক্রিকেট খেলতেন। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে তিনভাই একই সঙ্গে খেলেছেন বিশ্বকাপ।

সব ধরনের ক্রিকেটীয় শটে পারদর্শী ছিলেন টিকোলো। মূলত আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী মাথা ঠাণ্ডা রেখে দীর্ঘ সময় ব্যাট করে যেতে পারতেন তিনি। ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় টিকোলোর। সে ম্যাচেই নিজের ক্রিকেটীয় গুণ দেখান বিশ্বকে। দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা ত্রিশের কোটা পার করতে না পারলেও টিকোলো ৬৫ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলেন।

সেবার ভারতের পুনেতে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন দেখে বিশ্ব। কেনিয়ার কাছে হেরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই বিশ্বকাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৯৬ রানের মনোমুগ্ধকর এক ইনিংস ছিল তাঁর।

বাংলাদেশ-কেনিয়ার দ্বৈরথ শুরু হয়েছিল বেশ আগে থেকে। ১৯৯৪ সালে আইসিসি ট্রফির সেমিফাইনালে কেনিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। কিন্তু পরের বার এই কেনিয়াকে হারিয়েই আইসিসি ট্রফির শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। সেই ফাইনালে হারলেও ১৪৭ রানের অতিমানবীয় এক ইনিংস খেলেছিলেন টিকোলো।

২০০২ সালে জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান টিকোলো। তাঁর নেতৃত্বে ২০০৩ বিশ্বকাপে সবাইকে চমকে সেমিফাইনালে খেলে কেনিয়া। টেস্ট খেলুড়ে দেশ না হয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার ঘটনা সেটি ছিল প্রথম এবং শেষ। এরপর ২০০৭ এবং ২০১১ বিশ্বকাপও খেলেন টিকোলো। টানা পাঁচ বিশ্বকাপ খেলা বিরল ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৩৫ ওয়ানডেতে টিকোলো রান করেছেন ৩ হাজার ৪২৮। তিনটি শতক এবং ২৪টি অর্ধশতকে তাঁর গড় ছিলো ২৯.০৫। বারমুডার বিপক্ষে ১১১ রানের ইনিংসটি তাঁর ক্যারিয়ার সেরা। বল হাতে নিয়েছেন ৯৪ উইকেট। সেরা বোলিং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৪১ রানে ৪ উইকেট।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও আলো ছড়িয়েছেন তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে তিনি দীর্ঘদিন খেলেছেন মোহামেডানের হয়ে। ক্রিকেট কোচিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেন টিকোলো। বর্তমানে উগান্ডা জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

স্টিভ টিকোলোর সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫ হাজারের বেশি রান হলেও টেস্ট খেলতে না পারা। কারণ ক্রিকেট প্রশাসনের অদক্ষতা ও অবকাঠামোর অভাবে আইসিসির টেস্ট মর্যাদা পায়নি কেনিয়া। তবে টেস্ট না খেলেও বিশ্ব ক্রিকেটে যে প্রভাব বিস্তার করা যায়, তার প্রমাণ রেখে গেছেন স্টিভ টিকোলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here